নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি-¤
শুধু এনআইডি দিয়ে আবেদন করলে নির্ধারিত সময়ের আগেই মিলছে পাসপোর্ট। কোন ধরনের দালাল ছাড়া সহজেই এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে একজন নাগরিকের হাতে পাসপোর্ট পৌঁছে দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্চ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস।
সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁচ্ছে দিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জেলার প্রতিটি মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে বা পরে ইমাম সাহেবের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
কোনো আবেদনকারীর নাম, পিতা বা মাতার নাম কিংবা বয়সসহ অন্যান্য ভুল তাৎক্ষণিক সংশোধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়াও কোনো কাগজপত্র মিসিং হলে সেটি হোয়াটসঅ্যাপে আনিয়ে অফিসের কম্পিউটারে প্রিন্ট বা ফটোকপি করে সংযুক্ত করে আবেদন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে।
বর্তমান উপ-পরিচালকের দিক নির্দেশনা ও নিয়মিত মনিটরিং এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় পাসপোর্ট অফিসের সেবা প্রত্যাশীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ৭-৮ মাস আগেও একটি পাসপোর্ট করতে এসে সেবা গ্রহীতাকে দালাল চক্রের খপ্পরে পড়তে হতো।
আবেদন কপি জমা দেওয়া থেকে শুরু করে আইরিশ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেয়া এবং ছবি তুলতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাড়িয়ে থাকা, এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে ঘুরে ঘুরে হয়রানি হতে হতো। আবার আবেদনে ভুল হলে নতুন করে আবেদন করতে হতো।
সাত দিন বা ২১ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য এক মাসের বেশি সময়ে ধরে অপেক্ষা করতে হতো। দালাল চক্রের সদস্যরা পাসপোর্ট অফিসের ভেতরেই ঘুরঘুর করতো। কর্মকর্তাদের অফিসের সামনে বা টেবিলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকতো। এসব চিরচেনা চিত্র এখন আর নেই এ অফিসে।
দালাল কিংবা কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই সহজেই একজন নাগরিকের হাতে সময়ের আগেই পৌঁছে যাচ্ছে পাসপোর্ট। দালাল মুক্ত হওয়ায় বদলে গেছে পাসপোর্ট অফিসের চিত্র।
ঝুটঝামেলা ছাড়াই পাসপোর্ট হাতে পেয়ে খুশি সেবা গ্রহিতারা। এ অফিসে উপ-পরিচালক আবু নাঈম যোগদান করার পর তার নানা উদ্যোগ এবং নিয়মিত মনিটরিং এর কারণে সহজেই সেবা পাচ্ছেন গ্রাহকরা।
সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে ঘুরে সেবা প্রত্যাশীদের সাথে কথা বলে এসব জানা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের মূল ফটকের প্রবেশ পথে দায়িত্বরত আনসাররা পাসপোর্ট এর কাজ ব্যতিত অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। প্রবেশ পথেই রাখা সাউন্ডবক্স দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে দালাল চক্রের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি অফিসে এসে নিজের পাসপোর্ট নিজে করার জন্য।
পাসপোর্ট করার জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন সেটাও বলে দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ডিসপ্লেতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে পাসপোর্ট করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা। এর পাশে রাখা আছে সিলিং ফ্যানসহ সেবা প্রত্যাশীদের বসার স্থান।
রসুলবাগ এলাকার বাসিন্দা জামান আহমেদ জানান, ইতালি যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করতে এসেছি। দালাল ছাড়াই আবেদন করে আবেদনের কপি জমা দেওয়ার মাত্র ২০/২৫ মিনিট পরই ছবি, চোখের আইরিশ ও হাতের আঙ্গুলের ছাপ দিয়েছি।
সে আরও জানায়, অনেকেই বলেছে দালাল ছাড়া কাজ হয় না। আজকে এসে দেখি ভিন্ন চিত্র। নিজে নিজে পাসপোর্ট এর আবেদন জমা দিতে পেরে খুশি।
কাচঁপুরের সামিনা চৌধুরী জানায়, পাসপোর্ট এর আবেদনের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজ ও ফি জমা দিতে পারছিলাম না। অফিসে কর্মকর্তারা
সহযোগিতা করায় খুব দ্রুত জমা দিয়ে ছবি তোলাসহ যাবতীয় কাজ অল্প সময়ের মধেই কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই সম্পন্ন করেছি।
সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল নতুন মহল্লা থেকে আসা চ্যামেলী ও তার ভাই কামাল হোসেন জানায়, দালালমুক্ত ও হয়রানি ছাড়াই আবেদনের কপি জমা দিয়ে আধা ঘণ্টার মধ্যে ছবি তোলা, চোখের আইরিশ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে গেলাম। সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে হুমায়ুরা বেগম জানায়, দ্রুতই পাসপোর্ট হাতে পেয়ে গেছি। জর্ডানে যাওয়ার আবেদন করব।
নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক আবু নাঈম জানান, প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করার কারণে ভোগান্তি কমে এসেছে। পাসপোর্ট অফিসের সেবা নিতে সরকারি ফি ছাড়া এর বাইরে কোনো টাকা দিতে হয় না। ওয়েব সাইটে ফরম পূরণ করে গ্রাহকরা নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদনের কপি নিয়ে এলে আবেদন জমা নেয়া হচ্ছে। এতে কোনো ভুলত্রুটি ধরা পড়লে তা আমাদের কর্মকর্তারা তৎক্ষণিক সংশোধন করে আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জমা নিচ্ছে।
পাসপোর্ট অফিস দালালমুক্ত করার জন্য নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এছাড়াও রোগী, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, হজেগমনে ব্যক্তি, গর্ভবতী মা ও শিশু, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অগ্রাধিকার দেয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই পাসপোর্ট ডেলিভারীর জন্য মেসেজ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। ম্যাসেজ পেয়ে পাসপোর্ট বুঝে নিচ্ছেন।
এসব কারণে দাললচক্রটি নাখোশ হয়ে নানা অবান্তর ও মিথ্যা প্রচরণা চালিয়ে সেবাগ্রহিতাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আপনি বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পর এ অফিসের চিত্র এমন থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। যিনি জয়েন করবেন এটা তাঁর বিষয়।



