পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ
পঞ্চগড় বোদা উপজেলায় ডোবা থেকে সোয়েল ইসলাম (৩০) নামে এক দিনমুজুরের মরদেহ উদ্ধার করেছে বোদা থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় সোয়েলের বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় সংলগ্ন ডোবা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বোদা থানার পুলিশ মরদেহটি প্রাথমিক সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তবে সোয়েলের গলায় কাপড় বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যার চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধে হত্যার পরে সোয়েলকে ডোবার পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছে। নিহত সোয়েল ঐ এলাকার সাবিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে বাড়ির পাশের বেগুন ক্ষেত এলাকায় মোবাইলে ছোট ভাই সোয়েলকে ডেকে নেন বড় ভাই সুলতান আলী। ঘর থেকে বের হয়ে যাবার পরে রাতে আর বাড়ি ফেরেনি সোয়েল। পরেরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সোয়েলের বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় সংলগ্ন ডোবার পাশ দিয়ে ধান ক্ষেতে কাজে যাচ্ছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। পরে ডোবায় ভাসমান কিছু দেখতে পান তারা। কাছে গিয়ে একটি মরদেহ দেখতে পান ঐ শ্রমিকেরা। পরে তাঁদের চিৎকারে সোয়েলের পরিবারের সদস্যরা সহ স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় মরদেহটি সোয়েলের। এরপরে থানা পুলিশে খবর দেয়া হয়।
এর আগে, গত ২৬ আগস্ট বাড়ির পাশের জমির আইল কাটা ও মাছ ধরা নিয়ে চাচা এনামুল হক (সোয়েলের বাবার মামাতো ভাই) কবিরাজের সাথে মারামারি হয় সোয়েল সহ পরিবারের সদস্যদের। তবে জমি নিয়ে মারামারির পূর্বের একটি মামলায় সোয়েলের নামে ওয়ারেন্ট ছিল বলে জানা গেছে। এরপর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে সোয়েল বাড়ির সংলগ্ন সেচপাম্প ঘরে লুকিয়ে থাকতেন বলে জানা গেছে। এরই মাঝে এই হত্যকান্ডের ঘটনা ঘটল।
এ ব্যাপারে বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পরিবাররের পক্ষ হতে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় বিকাল ৪ টার মধ্যে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।




