ভান্ডারিয়া প্রতিনিধিঃ
ভান্ডারিয়ার পশ্চিম পশারীবুনিয়া গ্রামের ফয়জুল হক রিপনের ফসলি জমির ধান জোরপূর্বক কেটে নেন বিবাদী পরিতোষ ঢালীসহ ৮জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্ররা। গত বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টা-দুপুর ৩ ঘটিকা পর্যন্ত পরিতোষ ঢালীর নেতৃত্বে অভিযুক্ত আটজন সন্ত্রাসী চক্রসহ আরো শতাধিত লোকজন নিয়ে বাদী রিপনকে অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে ফসলি জমির ধান কেটে নেন। এধরনের অবৈধ ভাবে ধান কাটার দায়ে বাদী ফয়জুল হক রিপন পিতা মৃত্যু আবু বক্কর সিদ্দিক, সাং পশ্চিম পশারীবুনিয়া, থানা ভান্ডারিয়া, জেলা পিরোজপুর মহামান্য আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
বিবাদী আসামীরা হলো- পরিতোষ ঢালী(৫২) পিতা মৃত জীতেন চন্দ্র ঢালী, পবিত্র ঢালী(২৩) পিতা পরিতোষ ঢালী, সৌরব বল (৩২) পিতা সুধির চন্দ্র বল, উত্তম(৩২) পিতা নির্মল, অজিত(৪৫) পিতা অমল, দুলাল(৪২) পিতা বিমল, অসিম(৩৮) পিতা সুধির ও অশোক(৪০) পিতা অমলদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি ফৌজধারী আইনের ধারা-৪২৭/৩৭৯/৫০৬(২)১১৪ সিআর-১১ মতে। পিরোজপুর মহামান্য বিজ্ঞ আদালতে আট জনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ধান কাটা একটি মামলা প্রদান করেন বাদী রিপন।এরি প্রেক্ষিতে ১নং আসামী পরিতোষ ঢালী নামে একজনকে গ্রেফতার করেন পুলিশ। এবং বাকী আসামীদের আইনের ধারা মতে গ্রেফতার আইনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানাগেছে।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, ৩নং আসামী সৌরব বলের স্ত্রী রিনা রানী নামে ‘‘১৬৫নং দক্ষিণ পূর্ব পশারিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’’ নামে, একটি ভূয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক রীনা রানী (২৯) পিতা নির্মল চন্দ্র হালদার হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তর দায়ে ৩নং আসামীর তালিকায় রয়েছেন তিনিও। যাহার কেইস নং ২/২০২০ ধারা ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২)৫(৩)সহ ১৬২/১৬৩/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭ দন্ডবিধি ধারায় আসামী প্রদান করা হয় রিনাকে। জানাগেছে, সৌরব বল ও তাঁর স্ত্রী রীনা রানী উভয় দুটি মামলার ৩নং আসামী বর্তমানে চলমান রয়েছেন। এবং তাঁদের অবৈধ কর্মকান্ডে আরো বিভিন্ন প্রতারণা মূলক মামলাও রয়েছে বলে জানাগেছে। এনিয়ে তাঁদের পশ্চিম পশারীবুনিয়া গ্রামের সর্বস্তরের সচেতন মহলের কাছে তীব্রনিন্দা ও জোর প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন এলাকাবাসী। এবং সৌরব বল নিজেও একজন ‘‘ফ্যামিলি প্লাননিং’’ এর সরকারী কর্মচারী হয়ে অবৈধ ভাবে মামলা খেয়ে বসে আছেন। তিনি সরকারী অফিস ফাঁকি দিয়ে ও ‘‘ফ্যামিলি প্লাননিং’’ এর সরকারী ওষুধ সম্পূর্ণ রুপে বিক্রি করারও ব্যাপক অভিযোগ গড়ে উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এবিষয়ে বাদী রিপন দৈনিক সকালের কাগজকে জানান, আমাদের বাপ-দাদার পত্রিক সম্পত্তি ফসলি জমি জেএল-১৬, মৌজা- পশ্চিম পশারী বুনিয়া, এসএ- ৪৭২, খতিয়ানের হাল এসএ-১৮৬২, ১৮৭৩ ও ১৮৮০নং দাগের সর্ব মোটা ৭৬ একর সম্পত্তির ধান কেটে নিয়ে যান উক্ত বিবাদী চক্ররা। আমাদের ফসলি জমির উপর জোরপূর্বক ধান কাটাতে বাধা বিঘœ করলে। আমাকেসহ আমার পরিবারের সকল সদস্যদেরকে দেশীয় অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে জমির সকল ধান কেটে নিয়ে যান। এবিষয়ে ভান্ডারিয়া থানায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে মামলার জন্য গেলে, তৎকালিন সময়ের থানার সাবেক (ওসি ) এস.এম. মাকসুদুর রহমান বিবাদীদের থেকে মোটা অংকের উৎকোচ লুটিয়ে মামলা নেননি থানায়। যাহার পরিপ্রেক্ষিতে আমি নিজে বাদী হয়ে পিরোজপুর বিজ্ঞ আদালতে একটি ফৌজধারী আইনের মামলা প্রদান করি। এ মামলায় সন্ত্রাসী চক্রের প্রধান ১নং আসামী পরিতোষ ঢালী নামে তাকে গ্রেফতার করাতে সক্ষম হই। এবং বাকী সন্ত্রাসী চক্র আসামীদের বিরুদ্ধে আইনী তৎপরতা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী রিপন।




