মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সাংবাদিক সম্মেলনে ওই জমি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নেয়া বন্ধ করা ও ভূমিদস্যূতার বিচারের দাবীতে এসব তথ্যে তুলে ধরেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, ভালুকা উপজেলার বাশিল মৌজার এস এ খতিয়ান ২০ এর মালিক ছিলেন আমাদের দাদা মৃত মদন শেখ। দাদার মৃত্যুর পর আমাদের পিতা ছফির উদ্দিনের নামে ৩৩৯ নং বিআরএস খতিয়ান লিপিবদ্ধ হয়। যেখানে ১৭৮, ২০৬, ২৩৬, ২৩৭, ২৩৯, ২৪১, ২৪৮ ও ২৫১ নং দাগ সৃজন হয় এবং মোট ৮ দাগে মোট ২ একর ৯৬ শতাংশ জমি লিপিবদ্ধ হয়। পিতা ছফির উদ্দিন মৃত্যুকালে ২ স্ত্রী, ৬ পুত্র এবং ৪ কন্যা সহ মোট ১২ জন ওয়ারিশ রেখে যান। আমরা জন্মের পর থেকেই আমাদের জমি শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগ দখল করে আসছি এবং সর্বশেষ ছফির উদ্দিন ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের ৩৩৯ খতিয়ানের ২ একর ১৯ শতাংশ জমির খাজনা খারিজ পরিশোধ করেছেন।
গত ৮/৮/২০২৬ তারিখ হঠাৎ দেখতে পাই স্যুট-টাই পরিহিত একদল লোক আমাাদের জমি অডিট/পরিদর্শন করছেন। কাছে গিয়ে জানতে পারলাম, তাহারা প্রিমিয়ার ব্যাংক, ঢাকা বনানী শাখার অফিসার। আমাদের এই জমি এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ব্যাংকে বন্ধক রেখে শত কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছেন। আমরা ওয়ারিশানগণ এবং এলাকাবাসী মিলে ব্যাংকের লোকজনকে অডিট/পরিদর্শনে বাধা দেই এবং তীব্র প্রতিবাদের মুখে ব্যাংকের লোকজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সাব রেজিষ্ট্রি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস তল্লাশি দিয়ে এবং দলিলাদি উত্তোলন করে জানতে পারি, এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু আমাদের পিতা ছফির উদ্দিন এর ৩৩৯ নং বিআরএস খতিয়ানের ভূয়া মালিকনার ওয়ারিশান সার্টিফিকেট সৃজন করে বাশিল মৌজার দাদা মদন শেখের মালিকানাধীন এস এ খতিয়ান ২০, পিতা ছফির উদ্দিনের মালিকানাধীন বিআরএস খতিয়ান ৩৩৯ এবং উক্ত খতিয়ানের ২৩৬, ২৩৭,২৩৯, ২৪১, ২৪৮ ও ২৫১ নং দাগ উল্লেখ করে একটি সম্পূর্ণ জাল দলিল সৃজন করেছেন। যার দলিল নং ৭৩৫৫/২৪, তারিখ ৩/১২/২০২৪। সৃজনকৃত এই জাল দলিলের ২ একর ১৯ শতাংশ জমিও আবার নামজারি করেন তার মালিকানাধীন ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড কনষ্ট্রাকশন লিঃ এর অনুকুলে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরো জানান, ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে মিল ফ্যাক্টরীর ব্যবসা বাণিজ্য জবর দখলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থা ব্র্যাক এর জমি দখলসহ উপজেলার কাঠালি, মেহেরাবাড়ী, বাশিল, ঝালপাজা, হবিরবাড়ি এলাকায় বন বিভাগ ও নিরীহ জনগণের কয়েক শত বিঘা জমি তার আত্মীয় স্বজন ও অস্ত্রধারী পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জবর দখল করে নিয়েছেন। আমাদের এই জমিও ভূয়া ওয়ারিশান সাজিয়ে, জাল দলিল সৃজন ও নামজারি করে ব্যাংকে বন্ধক দেয়া অবৈধ জবর দখলের অংশ বিশেষ। এমপি বাচ্চু এলাকার দালাল ও দলিলের সনাক্তকারী জিয়াদ হোসেন শাকিল, ভেন্ডার সাইফুল আলম খান (সনদ নং ৫২৩২), স্বাক্ষী কায়সার ও হেলাল উদ্দিন এই চক্রের মাধ্যমে জমি জাল জালিয়াতি সম্পন্ন করেছেন। ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু আমাদের বাপ দাদার ভিটে মাটি জাল-জালিয়াতি, জোর জুলুম, নির্যাতন ও হয়রানীর মাধ্যমে জমি জবর দখলের এই হীন প্রয়াস এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান।
সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ভূমি লিপ্সু এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিচার, জাল দলিল বাতিল এবং জাল দলিল ব্যাংকে বন্ধক রেখে যাতে ঋণ না নিতে পারে এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।




