• About
  • Advertise
  • Careers
শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২৬
  • Login
NEWSLETTER
ডেইলি সকালের কাগজ
  • হোম
  • বাংলাদেশ
    • জাতীয়
    • এক্সক্লুসিভ
    • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • দেশজুড়ে
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • রাজশাহী
    • সিলেট
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
    • বিশ্বকাপ
    • ক্রিকেট
    • ফুটবল
    • টেনিস
    • হকি
  • অর্থনীতি
    • বিশ্ব অর্থনীতি
    • বিজনেস বিশেষ
    • শেয়ার বাজার
    • ব্যবসা-বাণিজ্য
    • ব্যাংক-বীমা
  • আরো সংবাদ
    • লাইফস্টাইল
      • রেসিপি ও রেস্তোরা
      • ফ্যাশন
      • রুপচর্চা
      • অন্যান্য
    • বিচিত্র জগত
    • শিক্ষাঙ্গন
    • সাহিত্য
    • ধর্ম
    • স্বাস্থ্য
    • অপরাধ
    • দুর্ভোগ
    • নারী
    • মতামত
    • চাকুরি
    • প্রবাস
    • আইন আদালত
    • তথ্যপ্রযুক্তি
ডেইলি সকালের কাগজ
  • হোম
  • বাংলাদেশ
    • জাতীয়
    • এক্সক্লুসিভ
    • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • দেশজুড়ে
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • রাজশাহী
    • সিলেট
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
    • বিশ্বকাপ
    • ক্রিকেট
    • ফুটবল
    • টেনিস
    • হকি
  • অর্থনীতি
    • বিশ্ব অর্থনীতি
    • বিজনেস বিশেষ
    • শেয়ার বাজার
    • ব্যবসা-বাণিজ্য
    • ব্যাংক-বীমা
  • আরো সংবাদ
    • লাইফস্টাইল
      • রেসিপি ও রেস্তোরা
      • ফ্যাশন
      • রুপচর্চা
      • অন্যান্য
    • বিচিত্র জগত
    • শিক্ষাঙ্গন
    • সাহিত্য
    • ধর্ম
    • স্বাস্থ্য
    • অপরাধ
    • দুর্ভোগ
    • নারী
    • মতামত
    • চাকুরি
    • প্রবাস
    • আইন আদালত
    • তথ্যপ্রযুক্তি
No Result
View All Result
ডেইলি সকালের কাগজ
Home সম্পাদকীয়

সড়ক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

by Abdul Halim Nisun
আগস্ট ১, ২০২৬
in সম্পাদকীয়
0
সড়ক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়
0
SHARES
1
VIEWS
Share on FacebookShare on TwitterShare on Pinterest
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল-¤
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের অর্থনীতি, শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বাণিজ্যের প্রতিটি ক্ষেত্রই সড়ক পরিবহনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। গত এক দশকে মহাসড়ক সম্প্রসারণ, সেতু নির্মাণ, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে যোগাযোগ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু অবকাঠামোগত এই উন্নয়নের পাশাপাশি একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা বারবার সামনে আসে, আর তা হলো সড়ক দুর্ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও প্রাণহানি, পঙ্গুত্ব কিংবা গুরুতর আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এসব দুর্ঘটনা কেবল কয়েকটি পরিসংখ্যান নয়, বরং প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি।
সড়ক নিরাপত্তা আজ শুধু পরিবহন ব্যবস্থাপনার একটি বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। উন্নত বিশ্বে সড়ক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতিসংঘও সড়ক দুর্ঘটনাকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং দুর্ঘটনা কমাতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশেও এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হলেও বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে এখনও অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হলো মানবসৃষ্ট ভুল। অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতা, ট্রাফিক আইন অমান্য, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং মাদকাসক্ত অবস্থায় যানবাহন পরিচালনার মতো বিষয়গুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী। অনেক চালক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা ছাড়াই  যানবাহন পরিচালনা করেন। লাইসেন্স প্রদান ব্যবস্থার দুর্বলতা, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব এবং নিয়মিত দক্ষতা মূল্যায়নের অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ হলো অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। দেশের অনেক সড়কে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, অসমতল রাস্তা, ভাঙাচোরা অংশ, অপর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, কার্যকর সড়ক চিহ্নের অভাব এবং যথাযথ লেন ব্যবস্থাপনা নেই। অনেক মহাসড়কে ধীরগতির যান, দ্রুতগতির যান এবং পথচারী একই পথে চলাচল করে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আবার কোথাও কোথাও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কে চলাচল করেন, যা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নগরায়ণ এবং যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধিও নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাক এবং অন্যান্য যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু সেই তুলনায় সড়ক ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি। ফলে যানজট, বিশৃঙ্খলা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত না হওয়াও দুর্ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনও মেয়াদোত্তীর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল করছে। ব্রেক, স্টিয়ারিং, টায়ার কিংবা আলোকব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে ত্রুটি থাকলেও অনেক যানবাহন নিয়মিত সড়কে চলাচল করছে। পর্যাপ্ত তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান।
পথচারীদের অসচেতনতাও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। অনেকেই নির্ধারিত জেব্রা ক্রসিং বা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে সরাসরি সড়ক পারাপার করেন। আবার অনেক মোটরসাইকেল আরোহী হেলমেট ব্যবহার করেন না বা মানসম্মত হেলমেট পরিধান করেন না। গাড়িচালক ও যাত্রীরা অনেক সময় সিটবেল্ট ব্যবহারে অনীহা দেখান। অর্থাৎ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু চালক নয়, প্রতিটি সড়ক ব্যবহারকারীর দায়িত্বশীল আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবহন খাতে প্রতিযোগিতামূলক সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা। নির্ধারিত সময়ের আগে গন্তব্যে পৌঁছানো কিংবা বেশি যাত্রী সংগ্রহের উদ্দেশ্যে অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। কোথাও কোথাও ট্রিপভিত্তিক আয়ের ব্যবস্থা চালকদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে উৎসাহিত করে। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ না হলে দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে।
আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। প্রভাবশালী ব্যক্তি, অনিয়ম, দুর্বল তদারকি এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক অপরাধী শাস্তির আওতার বাইরে থেকে যায়। ফলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা এবং ভয়, উভয়ই কমে যায়।
সড়ক দুর্ঘটনার অর্থনৈতিক ক্ষতিও অত্যন্ত ব্যাপক। দুর্ঘটনায় একজন কর্মক্ষম ব্যক্তি মারা গেলে বা স্থায়ীভাবে পঙ্গু হলে শুধু একটি পরিবার নয়, জাতীয় অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ে। চিকিৎসা ব্যয়, উৎপাদনশীলতা হ্রাস, সম্পদের ক্ষতি, আইনি ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রভাব মিলিয়ে প্রতিবছর বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা একটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) উল্লেখযোগ্য অংশের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সমাজের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, শিক্ষার্থী, পথচারী এবং নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেক শিশু তাদের বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে যায়, আবার অনেক পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবহন সমস্যা নয়, এটি একটি গভীর সামাজিক ও মানবিক সংকট।
সড়ক নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। দুর্ঘটনাকে ভাগ্য বা নিয়তির বিষয় হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে এটিকে প্রতিরোধযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কারণ বিশ্বের অনেক দেশ সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর আইন প্রয়োগ, উন্নত প্রকৌশল, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সচেতনতার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশও চাইলে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কেবল আইন প্রণয়ন বা বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কঠোর বাস্তবায়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোপরি একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা। সড়ক নিরাপত্তা এমন একটি বিষয়, যেখানে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিক, স্থানীয় সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিক সবাইকে সমান দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে  প্রয়োজন সড়কের  অবকাঠামো উন্নয়ন। দেশের অনেক মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, ভাঙাচোরা অংশ, অপর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, মানসম্মত সড়ক চিহ্ন এবং লেন বিভাজনের অভাব রয়েছে। এসব ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংস্কার করতে হবে। নতুন সড়ক নির্মাণের সময় নিরাপত্তা নিরীক্ষা (Road Safety Audit) বাধ্যতামূলক করা উচিত। পাশাপাশি পথচারীদের জন্য ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস, সাইকেল লেন এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একজন চালকের হাতে শুধু একটি গাড়ি নয়, বহু মানুষের জীবনও অর্পিত থাকে। তাই দক্ষতা যাচাই ছাড়া কোনোভাবেই ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া উচিত নয়। পেশাদার চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা এবং রিফ্রেশার কোর্স চালু করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘসময় টানা গাড়ি চালানোর প্রবণতা বন্ধে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাও সময়ের দাবি। যাত্রী পরিবহনে অতিরিক্ত গতি, প্রতিযোগিতামূলকভাবে যাত্রী ওঠানামা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং অনিয়মিত স্টপেজ ব্যবস্থাপনা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। রুট পারমিট, ফিটনেস সনদ, চালকের লাইসেন্স এবং যানবাহনের কারিগরি সক্ষমতা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। গণপরিবহন পরিচালনায় জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে না। সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব বিবেচনা না করে সমানভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অতিরিক্ত গতি, মাদক বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, মোবাইল ফোন ব্যবহার, হেলমেট বা সিটবেল্ট ব্যবহার না করা এবং উল্টো পথে চলাচলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
প্রযুক্তির ব্যবহার সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পারে। আধুনিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, সিসিটিভি ক্যামেরা, অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন (ANPR), স্পিড ক্যামেরা এবং ই-চালান ব্যবস্থা সফলভাবে দুর্ঘটনা ও আইন লঙ্ঘন কমিয়েছে। বাংলাদেশেও এসব প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং গবেষণার জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় ডেটাবেজ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন, পথচারীর আচরণ, সাইকেল চালানোর নিয়ম এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের শিক্ষা দিতে হবে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ট্রাফিক ক্লাব এবং নিরাপদ সড়ক বিষয়ক কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
গণমাধ্যমও সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের একটি শক্তিশালী অংশীদার। দুর্ঘটনার খবর প্রকাশের পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ, প্রতিরোধের উপায়, ভালো উদ্যোগ এবং সচেতনতামূলক বার্তা নিয়মিত প্রচার করা প্রয়োজন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে পরিবহন খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনা তুলে ধরলে নীতিনির্ধারকদের ওপর ইতিবাচক চাপ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও দায়িত্বশীলভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সামাজিক আন্দোলনের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠন নিরাপদ সড়কের দাবিতে জনসচেতনতা সৃষ্টি, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং নীতিগত সুপারিশ প্রদান করে আসছে। এই ধরনের উদ্যোগকে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলে জনসম্পৃক্ততা আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ সড়ক নিরাপত্তা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি একটি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনের বিষয়।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও মৃত্যুহার কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। দেশের মহাসড়কগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, ট্রমা কেয়ার সেন্টার, জরুরি উদ্ধার ইউনিট এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী নিয়োজিত করতে হবে। দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।
নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও নিরাপদ সড়কের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। যানজট কমাতে মানসম্মত গণপরিবহন, রেলভিত্তিক যোগাযোগ, জলপথের উন্নয়ন এবং সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নিরাপদ, আরামদায়ক ও সময়নিষ্ঠ গণপরিবহন নিশ্চিত করা গেলে সড়কের চাপ যেমন কমবে, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সড়ক দুর্ঘটনাকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। বিশ্বের বহু দেশ পরিকল্পিত উদ্যোগ, কঠোর আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। বাংলাদেশও চাইলে সেই পথ অনুসরণ করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ।
নিরাপদ সড়ক কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার। একটি দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণই কেড়ে নেয় না, বরং একটি পরিবারকে অসহায় করে, অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সমাজে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সড়ক নিরাপত্তাকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিতে হবে। দায়িত্বশীল চালক, সচেতন পথচারী, আধুনিক অবকাঠামো, কঠোর আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং জনসম্পৃক্ততার সমন্বিত প্রয়াসই পারে একটি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। আজকের সঠিক সিদ্ধান্তই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন করবে। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার সম্মিলিত  দায়িত্ব। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সবার সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
[লেখক পরিচিতি :
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
(শিক্ষক, কবি, কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক) lionganibabul@gmail.com]
Tags: সড়ক
Abdul Halim Nisun

Abdul Halim Nisun

Next Post
সীমান্তবর্তী মানুষের মাঝে পঞ্চগড় বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান

সীমান্তবর্তী মানুষের মাঝে পঞ্চগড় বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান

Recommended

রাজধানীর ‘শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ’ দুর্নীতির আখড়া

রাজধানীর ‘শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ’ দুর্নীতির আখড়া

4 years ago
নান্দাইল দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গাছপালা কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

নান্দাইল দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গাছপালা কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

2 months ago

জনপ্রিয় খবর

  • নীরব ভালোবাসা 

    নীরব ভালোবাসা 

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • কেয়া কসমেটিকসের ৮.৫ হাজার কোটি টাকা ‘উধাও’

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • শরীয়তপুরে জলিল আবাসিকে অনৈতিক কর্মকান্ডে ধরা পড়লো কারারক্ষী

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • নতুন বছরে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান : ওবায়দুল কাদের

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • ঘোড়াঘাটে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

Connect with us

Facebook Twitter Youtube RSS

প্রধান কার্যালয়

ডেইলি সকালের কাগজ

২১, রাজউক এভিনিউ, পরিবহণ ভবন (৬ষ্ঠ তলা)
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭৩৯৪১৭৫২৪, ০১৯৪৩৩৩৬৮১৩

সম্পাদক ও প্রকাশক

আব্দুল হালিম নিশান

ইমেইল: dailysokalerkagoj@gmail.com
বার্তা বিভাগ : হাজী নেকবর আলী সুপার মার্কেট,পঞ্চম তলা,চিটাগাংরোড ,নারায়ণগঞ্জ ।
ds.kagoj@gmail.com

প্রধান উপদেষ্টা

মো: রূপালী খান

ব্যবস্থাপক : মো: মহিবুল্লাহ লিটন।
সহকারী সম্পাদক : মো: আরিফ বিল্লাহ ডালিম।
সহকারী সম্পাদক : রাজিবুল হাসান ।

© 2023 ALL RIGHTS RESERVED | DAILYSOKALERKAGOJ.COM.

No Result
View All Result
  • হোম
  • বাংলাদেশ
    • জাতীয়
    • এক্সক্লুসিভ
    • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • দেশজুড়ে
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • খুলনা
    • রাজশাহী
    • সিলেট
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
    • বিশ্বকাপ
    • ক্রিকেট
    • ফুটবল
    • টেনিস
    • হকি
  • অর্থনীতি
    • বিশ্ব অর্থনীতি
    • বিজনেস বিশেষ
    • শেয়ার বাজার
    • ব্যবসা-বাণিজ্য
    • ব্যাংক-বীমা
  • আরো সংবাদ
    • লাইফস্টাইল
      • রেসিপি ও রেস্তোরা
      • ফ্যাশন
      • রুপচর্চা
      • অন্যান্য
    • বিচিত্র জগত
    • শিক্ষাঙ্গন
    • সাহিত্য
    • ধর্ম
    • স্বাস্থ্য
    • অপরাধ
    • দুর্ভোগ
    • নারী
    • মতামত
    • চাকুরি
    • প্রবাস
    • আইন আদালত
    • তথ্যপ্রযুক্তি

© 2023 ALL RIGHTS RESERVED | DAILYSOKALERKAGOJ.COM.

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
ভাষা